এন্ড্রয়েড সমাচার : বেসিক আলোচনা – (পর্ব : ৬)

এন্ড্রয়েড রুটিং এন্ড্রয়েড রুটিং কি এবং এর সাবধানতা :

এন্ড্রয়েড রুটিং করাকে আই-ফোনের ভাষায় ‘জেইলব্রেক’ করা বলে। অর্থাৎ জেল থেকে আসামী পালানোর সাথে একে তুলনা করা হয়েছে। জেলে একজন আসামী যতদিন থাকে ততদিন নিজের ইচ্ছেমত কোন কাজ করতে পারে না, থাকে অন্যের অধীনে। তাকে যতটুকু কাজ করতে বলা হবে সে ঠিক ততটুকুই কাজ করতে পারবে এর বেশি নয়। কিন্তু জেল থেকে ছাড়া পেলে সে আর আসামী থাকবে না এবং অন্যের অধীনেও থাকবে না। সে সময় সে নিজের ইচ্ছেমত যে কোন জায়গায় যেতে পারবে এবং যা ইচ্ছে তাই করতে পারবে। এন্ড্রয়েড এর রুটিং বা আই-ফোনের জেল-ব্রেক অনেকটা এমনই ব্যাপার।Android-Security

এখন আসি আসল কথায়, এন্ড্রয়েড ডিভাইস এর সম্পূর্ণ ব্যবহার ডিভাইসটির প্রথম অবস্থাতেই করা যায় না। অনেক কিছুই আছে যেখানে একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য প্রবেশ নিষেধ (যেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ সেটিং পরিবর্তন ইত্যাদি)। সেখানে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়াকে ‘রুট একসেস’ করা অথবা ‘এডমিনেষ্ট্রেটর এর পাওয়ার’ পাওয়া বলা হয়।

যদি আপনি রুট একসেস না করে ডিভাইসটি চালান তাহলে সাধারণত ডিভাইসটিতে সফটওয়্যার-জনিত কোন সমস্যা হবার কথা না এবং সমস্যা হলেও তা অনায়াসেই সমাধান করা যায়। নতুন ব্যবহারকারীর জন্য ভয়ের কোন কারণ তখন থাকেনা সেই সময়। তাই ‘রুট সিস্টেম’ প্রাথমিক অবস্থায় নিয়ন্ত্রিত থাকে।

কিন্তু আপনি যদি চান আপনার ফোনের সম্পূর্ণ ব্যবহার করবেন এবং মনে করছেন রুট একসেস পেলে আপনার কোন সমস্যা হবে না, তাহলে আপনি বিশেষ কিছু সিস্টেমে এই ‘রুট একসেস’ বা ‘এডমিন পাওয়ার’ নিয়ে নিতে পারবেন। একেই এন্ড্রয়েড এর ভাষায় ‘রুটিং’ করা বলা হয়।

সংক্ষেপে রুট করার উপকারিতা এবং অপকারিতা :

উপকারিতা :

রুট করা ডিভাইসে আপনি আপনার সম্পূর্ণ অধিকার পাবেন। ডিভাইসের পূর্ণ ব্যবহার করতে পারবেন।

বেশিরভাগ এ্যাপ বা গেম ব্যবহার করতে পারবেন।

android-after-root

অপকারিতা :

রুট করার পর আপনি আপনার ডিভাইসটির ওয়ারেন্টই (যদি থাকে) হারাবেন।

সাবধানতা অবলম্বন করে আপনাকে আপনার ডিভাইসটি ব্যবহার করতে হবে। যে কোন ভুলের কারণে আপনি আপনার ডিভাইসটিকে লক করে ফেলতে পারেন।

সাবধানতা : রুটিংকরার ক্ষেত্রে অনেক সাবধানতা নিতে হবে। অনেক সময় রুটিং করতে গিয়ে ভুলকরে থাকলে আপনার এন্ড্রয়েড ডিভাইসটি সম্পূর্ণভাবে লক বা অকেজো হয়ে যাবে। এছাড়াও সফলভাবে একবার রুট করা হয়ে গেলে আপনি আপনার এন্ড্রয়েড ডিভাইসটির ওয়ারেন্ট সম্পূর্ণরূপে হারাবেন।  তাই রুট করার প্রয়োজন না হলে অন্ততপক্ষে ওয়ারেন্ট চলাকালীন সময় এবং নিজেকে দক্ষ মনে না হলে, রুট না করাই ভালো বলে আমি মনে করবো।

(বি: দ্র: এডমিনের অনুমতি ব্যতীত এই লেখা অন্য কোথাও পোস্ট করা যাবে না। একান্ত প্রয়োজনে যদি কেউশেয়ার করতেই চান তাহলে অবশ্যই এই ব্লগটির লিংক ব্যবহার করুন।)

পোস্টটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *