ইন্টারনেটে ইমেইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বটনেট স্প্যাম

ইন্টারনেট নিরাত্তার সাথে জড়িত বিভিন্ন সিকিউরিটি ফার্মগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইন্টারনেটে ইমেইলের মাধ্যমে আবার ছড়িয়ে পড়ছে বটনেট স্প্যাম। বটনেট স্প্যামগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম হল স্রিজবি বটনেট, যা এবার এই স্প্যাম আক্রমণটি মূলত পরিচালনা করছে। নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্রিজবি বটনেট প্রতিদিন ইমেইলের মাধ্যমে ৬০ বিলিয়ন স্প্যাম মেসেজ ছাড়াচ্ছে। বটনেট হল এক গুচ্ছ সফটওয়্যার রোবট যা সংড়্গেপে বটস বলা হয় আর এরকম সফটওয়্যার বট স্বয়ংক্রিয় বা আটোমেটিকভাবে কাজ করতে সড়্গম। ওয়ার্ম, ট্রোজান হর্স বা ব্যাকডোর সফটওয়্যারের একত্রে একটি বান্ডেলকেও বট বলা হয়। যে সমস্তô বট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেগুলোকে বলা হয় বটনেট। বটনেট মূলত স্প্যাম আকারে একগুচ্ছ ওয়ার্ম ও ট্রোজান হর্স নিয়ে আক্রমণ করে। এবারের আক্রণের আগ পর্যন্তô স্রিজবি বটনেট ছিল বটনেট আক্রমণের ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম বটনেট। কিন্তু এবার বড়সর আক্রমণ করে ইন্টারনেট স্প্যাম আক্রমণের ইতিহাসে প্রথম স্থান করে নিয়েছে স্রিজবি বটনেট। স্রিজবি বটনেট যে সার্ভারের মাধ্যমে উৎপত্তি হয়েছে তা নভেম্বর মাসের ১১ তারিখে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে স্রিজবি বটনেট ছড়ানোর মূল হোতাদের খুঁজে বের করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু ইন্টারনেটে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে বিলিয়ন বিলিয়ন বটনেট, যা ১১ নভেম্বরের আগেই ইন্টারনেটের সকল প্রান্তেô চলে গেছে। এখন এসব বটনেটগুলো অটোরেপিস্নকেশন বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কপি তৈরি হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। স্রিজবি স্প্যাম বটের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট হল মাস্টার সার্ভার বন্ধ হওয়ার পরপরই এটি আক্রমণ চালানো শুরম্ন করে। মাস্টার সার্ভার অর্থাৎ যে সার্ভার থেকে বটনেটের উৎপত্তি সে সার্ভারের চালু অবআয় স্রিজবি বট নেটওয়ার্কের মধ্যে নিস্ত্র্নিয় অবস্থায় অবস্থান করে। তারপর যেসব কম্পিউটারগুলোকে আক্রমণ করে সেসব কম্পিউটারকে হোস্ট বানিয়ে ফেলে। আর হোস্ট কম্পিউটারগুলো যেসব কম্পিউটারের সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সেসব কম্পিউটারে ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইমেইলে স্প্যাম আকারে ছড়িয়ে পড়ে। ৬ লড়্গ কম্পিউটারে হ্যাকিং-এর মাধ্যমে পৃথিবীর ইন্টারনেট সংযোগযুক্ত মোট কম্পিউটারেরা ৩০ শতাংশ বটনেট আক্রমণের শিকার। এ পর্যন্তô সংঘবদ্ধ স্প্যাম আক্রমণের দিক দিয়ে এটি সর্ববৃহৎ আক্রমণ বলে বিবেচিত। যেহেতু বটনেট এর উৎস মাস্টার সার্ভারটি বন্ধ হয়ে গেছে আর অন্যান্য হোস্ট সার্ভারগুলোও বন্ধ হওয়ার পরপরই এটি অন্য কম্পিউটারকে আক্রণ করে তাই স্রিজবি’র উৎস খুঁজে বের করাটাই একটা চ্যালেঞ্জ এর বিষয়। স্রিজবি স্প্যামের মূল প্রোগ্রাম কোডে একটি বিশেষ ফাংশন রয়েছে যার মাধ্যমে এক্সপার্ট প্রোগ্রামাররা প্রোগ্রামিং কোড পরিবর্তন করে স্রিজবি’র নতুন রূপ দিতে পারে। এর ফলে দেখা যাচ্ছে স্রিজবি’র রূপও বদলে যাচ্ছে বারবার। আর এ ধরণের মেলওয়্যার প্রোগ্রাম কোড লেখার মতো প্রোগ্রামার রয়েছে অনেক, তাই সব মিলিয়ে এবার আক্রমণটি চিহ্নিত করা হয়েছে ভয়াবহ হিসেবে। আমাদের দেশে এখনও অনেকে হয়ত এ হামলা অনুভব করতে পারছে না। তবে সতর্ক থাকার জন্য ই-মেইলে আসা কোনো স্প্যাম বা অপরিচিত এটাচমেন্ট খোলা যাবে না। স্প্যাম বা অপরিচিত এটাচমেন্ট পেলেই তা মুছে ফেলতে হবে। নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি ফার্ম ফায়ারআই এর তথ্যমতে, ৬ লড়্গ স্রিজবি আক্রান্তô কম্পিউটারে নতুন করে ডোমেইন নির্ধারণ করতে হবে। তাহলে সেই কম্পিউটারটি স্রিজবি মুক্ত কম্পিউটার বলে বিবেচিত হবে।

উৎস : দৈনিক ইত্তেফাক ২০০৮

পোস্টটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *