টয়োটার তিনটি মডেল

টয়োটা’ ব্র্যান্ডটির সাথে আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এটি। বাংলাদেশে এর যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৪ সালে। নাভানা কোম্পানি টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়ি বাজারজাত করছে এই দেশে।

টয়োটার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য অন্যসব ব্র্যান্ড হতে আলাদা তা হচ্ছে এর রিসেল ভ্যালু অনেক, অনেক বেশি। অর্থাৎ টয়োটার পুরনো গাড়ি বেচে দিতে চাইলেও বেশ দাম পাবেন। পুরনো কার বিক্রির টাকার সঙ্গে সামান্য কিছু টাকা যোগ করলেই আপনি নতুন মডেলের কার কিনতে পারবেন অনায়াসেই।

তাছাড়া গাড়ির কোন যন্ত্রাংশ বিকল বা মেরামতের প্রয়োজন হলে তাও বেশ সহজলভ্য। টয়োটার তিনটি রাজসিক মডেল ‘ক্যামরি’, ‘ফরচুনার’ ও ‘ইয়ারিস’ ইতিমধ্যেই লাভ করেছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক এই মডেলগুলো সম্বন্ধে।

তারুণ্যের উন্মাদনা-টয়োটা ক্যামরি

সোসাইটির টপ লেভেলের ইয়াং চ্যাপদের টার্গেট করেই টয়োটা ক্যামরির নতুন মডেলের প্রবর্তন করা হয়। আর এই তরুণরা আকৃষ্ট হবেই বা না কেন, ‘স্পোর্টি লুক’, ‘লেক্সাস সাদৃশ্য’, ‘ক্রুজ কন্ট্রোল’ প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য ক্যামরিকে পরিণত করেছে তারুণ্যের উন্মাদনায়।

ক্রুজ কন্ট্রোলের ব্যাপারটি হয়তো অনেকেরই কাছে নতুন। একটি নির্দিষ্ট স্পিড উঠিযে ক্রুজ কন্ট্রোলটি অন করে দিলে সেই স্পিডেই গাড়িটি চলতে থাকবে। আমাদের দেশে এই মডেলটা এখন পর্যন্ত ভালোই সাড়া পাচ্ছে। যদিও এর দামটি অন্যান্য মডেলের গাড়িগুলোর চেয়ে একটু বেশিই, ৪৮, ৫০,০০০ টাকা।

তবে যারা টয়োটা গাড়ি সম্বন্ধে খবর রাখেন তারা নিশ্চয়ই জানেন যে, এই গাড়ির রিসেল ভ্যালু প্রায় ৮০% পর্যন্ত হতে পারে। তারুণ্যের প্রতীক ক্যামরির ফিচারগুলো দেখে নিন এক নজর।

২৪০০ সিসি

ভিভিটিআই ইঞ্জিন
ডুয়্যাল এসআরএস এয়ার ব্যাগ
ক্যাটালাইটিক কনভার্টার
পাওয়ার স্টিয়ারিং
অ্যান্টি লক ব্রেকিং সিস্টেম
মুন রুফ
ক্রুজ কন্ট্রোল
এ্যালার্মসহ অ্যান্টি থেফট সিস্টেম

বিলাসি গাড়ি ফরচুনার

টয়োটার গাড়ি রাজ্যের আরও একটি সদস্য হচ্ছে ফরচুনার। মূলত সোসাইটির টপ লেভেলের কাস্টমারদের টার্গেট করেই এই মডেলের গাড়ির প্রবর্তন। গাড়িটির মূল্যমান শুনলেই বুঝতে পারবেন কেন গাড়িটি টপ লেভেলের কাস্টমারদের জন্য। এর মূল্যমান হচ্ছে ৫০,০০,০০০ টাকা। বিলাসি এই গাড়ির ফিচারগুরো জেনে নিন এক নজরে-

২৭০০ সিসি
ভিভিটিআই ইঞ্জিন
পাওয়ার স্টিয়ারিং
অটোমেটিক ট্রান্সমিশন
পাওয়ার ডোর লক
পাওয়ার মিটার
ট্রিপ মিটার
ক্যাটালাইটিক কনভার্টার
ট্যাকোমিটার, অ্যান্টি লক ব্রেকিং সিস্টেম
অ্যান্টি থেফট সিস্টেম, ওয়্যারলেস ডোর লক

স্পোর্টি লুক-ইয়ারিস
স্পোর্টি গাড়ি চালানোর মজা পেতে চান? তাহলে চোখ বন্ধ করে কেনার কথা ভাবতে পারেন টয়োটার এই মডেলটি। ইয়ারিসের স্পোর্টি লুকই এর বিচিত্রতা। এছাড়া গাড়িটির ইলেকট্রিক অ্যাসিস্ট পাওয়ার স্টিয়ারিং আপনাকে দেবে স্মুথ ড্রাইভিংয়ের আনন্দ। গাড়িটির মূল্যমান হচ্ছে ১৭,০০,০০০ টাকা। এক নজরে ইয়ারিসের অন্যান্য ফিচারগুলো দেখে নিন –

* ১৩০০ সিসি
* ভিভিটিআই ইঞ্জিন

* ডুয়্যাল এসআরএস এয়ার ব্যাগ
* অ্যান্টি লক ব্রেকিং সিস্টেম
* ওয়্যারলেস ডোর লক
* ট্যাকনোমিটার
* ক্যাটালাইটিক কনভারটার

গাড়ি কিনতে যারা আগ্রহী তারা তাদের সাধ ও সাধ্যমতো নিশ্চিন্ত মনে বেছে নিতে পারেন এগুলোর যেকোনো একটি। টয়োটা ব্র্যান্ডের যেকোনো কার কেনার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায়- নাভানা গ্রুপ, নাভানা টয়োটা থ্রি এস সেন্টার, ২০৫, ২০৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা। ফোন : ৯৮৯২৯১১, ৯৮৯৩০৪৮।

উৎস : বাংলাদেশ ইনফো (সেপ্টম্বার, ২০০৮)

পোস্টটি শেয়ার করুন :