Category Archives: ব্যক্তিগত

শুধু তোমাকে নিয়ে

আজ আর বলবো না।
আজ আর বলবো না, হৃদয়ে জমে থাকা কষ্টের কথা।
আজ আর বলবো না।

আজ আর শোনাবো না,
হাঁসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা কান্নার শব্দ।

আজ থাকনা পড়ে সেই সব পুরনো এক ঘেয়েমী কথাগুলো !
আজ নাই বা দেখলে হৃদয়ের সেই সব পুরনো ক্ষত,
যা প্রতিদিন দেখে যাও, গুনে যাও অবিরত।

আজ নাইবা নিলে স্বাদ অশ্রুর তিক্ততা।
আজ আর বলবো না,
আজ আর বলবো না হৃদয়ের জমে থাকা সেই কষ্টের কথা।

আজ আর বলবো না, রাতের নীরবতা কি বলে।
দেখাবো না, চাঁদ কাকে সঙ্গ দিয়ে চলে।
আজ তারার রাজ্যে নেবো না তোমায়।
দেখাবো না আমার এই দার্শনিকতা।
ভয় নেই !
আজ আর বলবো না হৃদয়ের জমে থাকা সেই পুরনো কষ্টের কথা।
আজ আর বলবো না !

আজ শুধু শুনে যাবো, নীরবতা কি বলে।
আজ শুধু দেখে যাবো, তোমার মায়াভরা চোখের কম্পন।
আজ সব হবে, অনুভবে, কোন কথা ছাড়া –
আজ গুনে যাবো, গুনে যাবো তোমার প্রতিটি হৃৎস্পন্দন।
আজ তৃষ্ণা মেটাবো তোমার অশ্রু পানে,
নীরবতা কাটাবো হৃদকম্পনে।
ঘ্রাণ নেবো তোমার চুলের।
কি দরকার !
কি দরকার অযথা – হাসনাহেনা, জুঁই, সিউলী ফুলের !

আজ আর দেখাবো না হৃদয়ের অস্থিরতা।
আজ আর লিখবো না !
লিখবো না নিজেকে নিয়ে সেই একঘেয়েমি কবিতা।

আজ সব হবে অনুভবে –
যাবো তোমার মাঝে হারিয়ে,
আজ পুরো রাতটাই, আজ পুরো রাতটাই সব হবে তাই –
শুধু তোমাকে নিয়ে !

– এলিন (১৫/১২/২০১১, রাত – ১.০৫ টা)

ভয়

যদি বল আমায়,

ঐ দুর নীলিমায়,

ছড়িয়ে দেবো তোমার ঠোঁটের রং।

যদি বল একবার,

পৃথিবীর সব সুন্দর কেড়ে এনে দেবো।

যদি ভালো লাগে আকাশের ঐ চাঁদ,

পেড়ে এনে দেবো।

যদি চাও হৃদয়ের গহীন হতে এনে দেবো-

গাড় নীল।

গেঁথে দেবো দৃষ্টিতে পৃথিবীর

সমগ্র বিস্ময়, অনাবিল-

সুন্দর।

দিতে পারি হৃদয়ের স্পন্দন-

যদি ভালো লাগে তোমার।

দিতে পারি এ’চোখের সবটুকু ক্রন্দন-

যদি বল একবার।

শুধু পারবোনা-

শুধু পারবোনা সরাতে

তোমার-আমার মাঝের এ’ ব্যবধানটুকু।

থাকনা এ দূরত্ব!

এতো কাছে আসার তো প্রয়োজন নাই!

আমি ভয় পাই!

ভয় পাই! যেটুকু পেয়েছি

যদি ওটুকুও হারাই!

                                    -এলিন (২৩/১১/২০১১)

ক্রমশ বদলে যাচ্ছি

আমি বদলে যাচ্ছি।

বদলে যাচ্ছি ধীরে ধীরে-

যা আমি চাই না।

আমি বদলে যাচ্ছি।

বদলে যাচ্ছে মনের অনুভূতি-

বদলে যাচ্ছে সেই পুরনো যন্ত্রণা।

বদলে যাচ্ছে সেই চাঁদ- রাতের নিস্তব্ধতা।

বদলে যাচ্ছে প্রকৃতির কল্পনা।

আমি বদলে যাচ্ছি।

যা আমি চাই না।

কিন্তু এটাই নিয়ম।

একেই মেনে নিতে হয়-

যা আমি পারিনা।

কিন্তু আমি জানি-

একদিন সব কিছু বদলে যাবে।

বদলে যাবে আপন ভুবন,

মনের সেই সাজানো ঘর।

বদলে যাবে এই শরীর,

হয়ে যাবে জীব থেকে জড়।

                                                                  -এলিন (২১/১১/২০১১)

একটি স্বপ্ন – ‘ঘুম ভেঙ্গে দিল ছোট্ট চড়ুই’…

গতরাতে ঘুমাই নি। জেগে জেগে নিশি পার করেছি। পরের দিন (মানে আজ সকালে) গোসল করে, খেয়েদেয়ে তারপর ঘুমাতে যাই। প্রায়ই আমার এমনটি হয়। নিস্তব্ধ রাতের সাথে কাঁটিয়ে দেই জীবনের কতকটা মূহুর্ত। খুব ভাল লাগে কিনা, জানি না- শুধু জানি এটাই নিয়ম।

নিস্তব্ধ রাতেরাও আমার সঙ্গ চায়, যেমনটা চায় আমার প্রিয় বন্ধুরা। …

যা হোক, সকালে একটু শুয়ে থাকলাম। চোখের পাতাদুটি এক হতেই কে যেন আমার কপালে মৃদু স্পর্শ করলো। সেই স্পর্শ এতোটা কোমল ছিল, এতোটা সুন্দর ছিল- যে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল।

তাকিয়ে কাউকেই দেখতে পেলাম না- সেই বরাবরের মতই। শুধু বুঝতে পারলাম। …

স্পর্শটি ছিল ছোট্ট এক চড়ুইয়ের। সে উড়ে এসে তার ছোট্ট ঠোঁট দিয়ে আমার কপালে স্পর্শ করলো। যেন বরাবরের মতই চুমু গেঁথে দিল। ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমি তাকে অনেক খুঁজি, কিন্তু পাই না। …

আমার কৌতূহলী মন, আজও সেই ছোট্ট চড়ুইয়ের সন্ধান করে বেড়ায়। জানতে চায় তার উদ্দেশ্য- চিনতে চায় তার আসল রূপ। …

– এলিন ( তারিখ: ০৩/১১/২০১১)

নিঃসঙ্গতার সাথী

আঁধারের মাঝে তোমায় দেখি
আলোয় দেখিতে চাই,
চোখ বুজিলেই তুমি থাকো-
মেলিলেই দেখি নাই।
যখন আমি থাকি একা বসে,
হঠাৎ দেখি তুমি আছো পাশে।
একাকীর সাথী তুমি একাকিনী;
নীরবের সাথী তুমি নীরবীনী;
রাতের আকাশে তাঁরা দেখি যখন-
তোমার ছোঁয়া পাই
যতক্ষণ আমি ঘুমিয়ে থাকি;
ততক্ষণ তুমি করো ডাকাডাকি;
ঘুম ভেঙ্গে গেলে চোখ মেলে দেখি-
তুমি আর পাশে নাই।
তোমার সঙ্গো লাগে খুব ভালো;
তাই অপ্রিয় হয়ে গেলো আলো;
তাইতো আমি গভীর ঘুমে-
ঘুমিয়ে থাকতে চাই

   – এলিন