দাবা নিয়ে কিছু কথা

বেশ কিছুদিন যাবত বিভিন্ন কারনে ব্লগে কিছুই লেখা হয় নাই। এছাড়াও অনেক ব্লগ এর জন্ম হয়েছে ইতিমধ্যে। লেখার তেমন কিছুই থাকেন না অনেক সময়। তবুও ব্লগ লিখতে আমার ভালো লাগে। অনেক আগেই নিচের লেখাটি আমি ড্রাফট এ সংরক্ষন করে রেখেছিলাম। পাবলিশ করা হয় নি। ভেবেছিলাম কিছুদিন পর পাবলিশ করবো। সেই কিছুদিন হয়ে গেল কিছু মাস, কিছু বছর। কথা বাড়িয়ে আর লাভ নাই। আসল কথায় আসি। আসল কথাটি দাবা নিয়ে। এখন যদিও দাবা তেমন আগের মত খেলা হয় না বললেই চলে। সময়ের অভাবে বা অস্থিরতার কারনে। …

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় খেলার তালিকায় দাবা অন্যতম। এটা বুদ্ধির খেলা হিসেবেই বেশি পরিচিত। কারণ দাবা বোর্ড দেখতে ছোটখাটো হলে কী হবে, এই খেলা খেলতে যথেষ্ট বুদ্ধি আর কৌশলের প্রয়োজন। দাবা খেলা একসময় আমি খুব বেশি খেলতাম। আমার খুব প্রিয় খেলা ছিল এটি। আজও প্রিয়, কিন্তু ব্রেইনকে এখন আর আগের মতন একদিকে রাখতে পারি না। দাবা নিয়ে ঘাটাঘাটি করতেও খুব ভালো লাগে। তবে, এখন প্রায় ৫/৭ বছর এরও বেশি হবে দাবা নিয়ে কিছুই করা হয় না। এমনকি দাবাটা যে কে নিয়ে গেছে তাও জানি না।  শুধু ভাঙ্গাচোরা একটা দাবা বোর্ড দেখি টেবিলে পড়ে আছে। এখন হঠাৎ করে সেই দাবা খেলার কথা খুব মনে পড়ছে। আর তাই আমি একটি নতুন বিভাগ খুললাম ‘দাবা‘ নিয়ে।

এখানে দাবার আলোচনার সাথে থাকবে মজার খবর, কথা, খেলা। এমনকি দাবার ধাঁধাঁ। যারা দাবা খেলা বেশ পছন্দ করেন এবং মনে করেন দাবা শেখা দরকার, তাদের এই বিভাগটি শুধু পছন্দই নয়, ভালো কাজেও আসবে আশা করি।

অনেকেই দাবা ভালো খেলেন। এমনকি অনেকে আছেন যারা তাদের নিজ নিজ এলাকায় সেরা দাবারু হিসেবে পরিচিত। এর কারণ সেই এলাকার অনককেই সে হাঁরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু দাবা খেলায় জেতাটাই কি সব!! না, দাবায় হার/জিত ছাড়াও অনেক কিছু রয়েছে। আর সেগুলো জানলে দাবার মজাটাও আরো দ্বিগুন বেড়ে যায়। মনে করুন আপনি জানতে পারলেন আগে থেকেই প্রায় ৩/৪ চাল পর কি হতে পারে। এবং কি করতে হবে। কেমন হয় বিষয়টি? আর সেই সব বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ। জানি না কতটুকু পারবো।

গত শতাব্দীতে দাবা খেলায় কম্পিউটারের ব্যবহার একে আরও জনপ্রিয় ও আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত করেছে।
১৯৯৬ সালে আন্তর্জাতিক গ্রান্ডমাস্টার গ্যারি কাসপারভ দাবা খেলেন ডিপ ব্লু নামের একটি কম্পিউটারের সাথে। সেবারই প্রথমবারের মতো মানুষের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা একটি যন্ত্র। সেবার ডিপ ব্লুর সাথে দাবা খেলায় গ্যারি কাসপারভ জিতে যান। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, তার ঠিক পরের বছর তিনি হেরে যান ডিপ ব্লুর কাছে। এ ঘটনা বিশ্ব জুড়ে সৃষ্টি করেছিল অনেক আলোচনা সমালোচনা। মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছিল, মানুষের চেয়ে কি যন্ত্র বেশি বুদ্ধিমান হতে পারে?

দাবার জন্ম

সে যাই হোক, যে দাবা নিয়ে এতো আলোচনা সমালোচনা সারা বিশ্বজুড়ে সেই দাবার জন্মস্থান ভারত উপমহাদেশ। খ্রিস্টিয় ৭ শতকে অর্থাৎ আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে এখানে দাবা খেলা চালু হয়। সেসময় এই খেলার নাম ছিলো চতুরঙ্গ (চতু মানে চার এবং অঙ্গ মানে অংশ)। আসলে তখন দাবায় হাতি, ঘোড়া, রথ ও পদাতিক সৈন্য এই চারটি অংশ ছিলো। তাই এরকম নাম ছিলো।

কিন্তু চতুরঙ্গ খেলাটা আজকের দাবা বা চেজ হয়ে উঠতে অনেক সময় এবং দেশ পাড়ি দিতে হয়েছে। সেই দীর্ঘ ইতিহাসকে সংক্ষেপে জানাচ্ছি।

ভারতের সাথে প্রাচীনকালে পারস্যের বানিজ্যিক যোগাযোগ ছিলো বেশ ভালো। পারস্যের বণিকেরা ভারতে এই মজার খেলা খেলতে দেখেছিল। তাদের কাছেও খেলাটা ভালো লেগে যায়। এসব বণিকদের হাত ধরে চতুরঙ্গ একসময় পারস্যে চলে যায়। সেখানে এর নতুন নাম হয় ‘শতরঞ্জ’। সেটা খ্রিস্টীয় ৬০০ সালের দিকের ঘটনা। এখানে দাবা খেলার নিয়ম কানুন আরও উন্নত হয়। প্রায় একই সময় ভারত থেকে খেলাটা চীনযাত্রা করে। চীনারা এর নামকরণ করে

জিয়ানকুই (xiangqi)। তবে চীনাদের দাবি জিয়ানকুই তাদের নিজেদের উদ্ভাবিত খেলা। শুধু তাই নয়, তাদের দাবি, দাবা খেলা আসলে ভারতে নয় চীনে উদ্ভাবিত হয়েছে।
প্রাচীন পারস্য বা আজকের ইরান একসময় মুসলমানদের দখলে চলে আসে। ধীরে ধীরে দাবা মুসলমানদের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় ইউরোপের স্পেন ছিল মুসলমানদের শাসন। তাই পারস্য থেকে শতরজ্ঞ একসময় স্পেনে তার শক্ত আসন গড়ে নেয়। পারস্যের শতরঞ্জ স্পেনে এসে ajedrez নাম ধারণ করে। শুধু তাই নয় পারস্য থেকে শতরঞ্জ আরও নানাভাবে ইউরোপে প্রবেশ করে। খ্রিস্টীয় দশম থেকে ১২ শতকে পারস্যে সালাউদ্দিনের শাসনামলে ইউরোপের ক্রুসেডাররা জেরুজালেম রক্ষার জন্য দলে দলে ভিড় জমায় পারস্যে। দীর্ঘদিন পারস্যে থাকতে থাকতে তারা পারস্যের অনেক কিছুই আমদানী করতে থাকে ইউরোপে। এভাবে শতরঞ্জও এইসময় ইউরোপে ও রাশিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখানেও সে নতুন নাম পায় ‘চেজ’। যা পুরাতন ফরাসী ভাষা ‘echec’ (অর্থ চেক) থেকে উদ্ভুত। শুধু নামেই নয়, খেলাটার আরও অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়। ইউরোপেই দাবায় প্রথম বিশপ (হাতি) যুক্ত হয়। আরও পরে যোগ হয় রাণী। পরে এই খেলা ইউরোপীয়দের মাধ্যমে একসময় সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এই জনপ্রিয়তার কারণেই ১৯২৪ সালে ফান্সের প্যারিস শহরে দি ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল ডেস চেস (FIDE) গঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি দাবা খেলার আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে। এই সংস্থা আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজক। দক্ষতার উপর নির্ভর করে এফআইডিই খেলোয়াড়দের ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার এবং গ্রান্ডমাস্টার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। যে সব খেলোয়ার প্রতিযোগিতায় সবার সেরা হয় তারাই গ্রান্ডমাস্টার। বর্তমানে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের ১৫৯টি দেশ এফআইডিই এর সদস্য।

দাবা ও বাংলাদেশ

আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন, বাংলাদেশ থেকে বেশ কয়েকজন এই খেলায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। নিয়াজ মোর্শেদ বাংলাদেশের প্রথম গ্রান্ডমাস্টার। তিনি ১৯৮৬ সালে গ্রান্ডমাস্টার হন। বাংলাদেশে পরবর্তীতে আরও চারজন গ্রান্ডমাস্টার হয়েছেন। তারা হলেন জিয়াউর রহমান, রিফাত বিন সাত্তার, আবদুল্লাহ আল রাকীব, এনামুল হোসেন রাজীব।

উৎস : বিডিনিউজ এবং অন্যান্য
সম্পাদনা : এলিন (এডমিন)

পোস্টটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *