পৃথিবীর সবথেকে মোটা শিশু

পৃথিবীর সবথেকে মোটা শিশুটির নাম জ্যাসিকা গৌডে বয়স ৭ বছর। সে দিনে ১০ হাজার ক্যালোরি খায়। সে হাটতে পারে না, শারিরীক কোন কাজ করতে পারে না। এবং তার কার্ডিওভাসকুলার সিসটেম (সংবহনতন্ত্র) এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।

সাত বছরের এই মেয়ে শিশুটির ওজন ২২২ কিলোগ্রাম। সে খায় ১০ ক্যালোরী প্রতিদিন কোকা-কোলা, ১৫টি হামবার্গার সাথে থাকে ফ্রাই এবং প্রচুর কিলোগ্রাম চকলেট।

সে প্রতিদিন যা খায় সেগুলি কিছু শিশু ৬ মাসে খায়। তার সকালের নাস্তায় থাকে সাদা রুটি, আলুর চীপস এবং ২ লিটার কোক এবং এরপরেও সে আরোও চায়।

যখন সে ডাক্তারের কাছে শেষবারের মত যায় চার বছর আগে, তখন সে ছিল ১১০ কিলোগ্রাম। তখন সে দৌড় তো দূরের কথা ঠিকমত হাঁটতেও পারতো না এবং তার ঔষুধ খেতে হয়েছিল ফ্লোরের উপর। কারন তার শরীরের এই রকম ওজনের কারণে হাড়গুলো মোচড়াইয়া গিয়েছিল। তাই ঠিকমত শুতে, বসতে পারতো না।

জ্যাসিকার মা ক্যারোলিন তাকে সবকিছু দিয়েছিল যা একটি শিশু চায়। তার জন্মের ১ম সপ্তাহ পর, যখন সে কেঁদেছিল পাকস্থলী ব্যাথার কারণে, তখন তার মা তাকে বতলের দূধ খাইয়ে শান্ত করেছিল। কারণ সে মনে করতো তার শিশুটি ক্ষুধার্ত। তার মা বলেন, আমি তাকে বতলে দুধ/খাবার দিতাম এবং সে আরোও চাইতো। ইহা তার জন্য প্রচুর ছিল না। এবং সে অনাবরত ক্ষুধার্ত হয়ে যেতো

ডাক্তার তাকে সাবধান করে দেন এবং বলেন, শিশুটি খুব বিপদজনক অবস্থায় আছে এবং তার স্বাস্থ্য এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি সে এখন মারাও যেতে পারে যদি ঠিকমত তার চিকিস্যা না কারানো হয়।

দূর্ভাগ্যজনক, জ্যাসিকার মা ঔষুধ বুঝতো না। শিশুটিকে সে খুব বেশী ভালোবাসতো এবং অনাবরত শুধু মিষ্টি খেতে দিত।

জ্যাসিকার আপডেট খবর :

ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০০৭

গত ৩ সপ্তাহ আগে জ্যাসিকা ৪০০ পাউন্ড ছিল এবং তাকে গড়িয়ে গড়িয়ে যেতে হতো, হাঁটতে পারতো না। এমনকি সে নি:শ্বাসও নিতে পারতো না।

কিন্তু খুশীর খবর যে, তাকে এখন তার বাড়ির বাইরে অনেক দুরের একটি ভিক্টোরিয়া রিকেনো নামক হসপিটালে নেয়া হয়েছে। কিন্তু এই সময় সে শ্বাসের সমস্যায় ভূগছিল।

হসপিটালে থাকাবস্থায় অতি শিঘ্রয়ই তার স্বাস্থ্যগত উন্নতি দেখা গেছে। সে এই প্রথমবারের মত তার শরীরের ওজনকে মানিয়ে নিয়েছে। কারণ সেখানের ডাক্তাররা তার প্রায় ৩০০ পাউন্ড ওজন কমিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

এখন সে কিছুটা খেলাধূলাও করতে পারে। আগে তার পা তার বিশাল ওজনকে সামলাতে পারতো না, এখন চিকষকরা এই সমস্যা দূর করতে পেরেছে, পায়ের চিকিসার মাধ্যমে।

চিকিসকরা তার পাকে শক্ত করে বেঁধে পিন এর সাহায্যে তার পায়ের অনুভুতি, শক্তি ফিরিয়ে এনেছে। চিকিষকরা ধারনা করেছেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সমস্যা পুরোপুরিই কেটে যাবে।

জ্যাসিকার ইউটিউব ভিডিও :

অনুবাদ : এলিন (এডমিন)

উৎস : ইন্টারনেট ২০০৮

পোস্টটি শেয়ার করুন :