ভারী পকেটের গল্প

হলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতা-অভিনেত্রী কারা- জনমনে নিত্য হানা দেয় এই কৌতূহল। বলাই বাহুল্য, সাধারণের ধারণার অনেক বাইরে ঘোরাফেরা করে হলিউড তারকাদের পারিশ্রমিকের অংকটা। সেলিব্রেটিদের বর্তমান কামাই কার কত তারই খতিয়ান তুলে ধরা হলো।

নাম যত কামাই তত। হলিউডের তারকাদের পারিশ্রমিকের অংকটা এই হিসেবেই উঠা-নামা করে। অস্কার মূর্তিটা কে কতবার হাতে নিয়েছেন প্রযোজকরা তারকাদের নামে চেক লিখবার আগে সেটা ভুলেও ভাবেন না। সমালোচকদের প্রশংসা কার ভাগ্যে জুটেছে, কার শিঁকে ছিড়েছে তাও ধর্তব্যের মধ্যে আনে না এমজিএম, ওয়ার্নার ব্রাদার্স, টুয়েন্টিন্থ সেঞ্চুরি ফক্সের মতো বিশ্ব-বিখ্যাত প্রযোজনা সংস্থাগুলো।

হলিউডে অর্থলগ্নিকারকদের চিন্তা থাকে একটাই-কার নাম ছবির টাইটেলে ভেসে উঠলে বিনিয়োগকৃত পয়সা দ্বিগুণ-চৌগুণ হয়ে ফিরে আসবে। তাইতো একাডেমি অ্যাওয়ার্ড বিতরণী অনুষ্ঠানের মঞ্চে চার কুঁড়ি বছর ধরে যেসব অভিনেতা-অভিনেত্রী উঠেছেন তাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজনই উচ্চ পারিশ্রমিক হাঁকতে পেরেছেন।

সেদিনের পুচকে ড্যানিয়েল রেডক্লিফ আর এমা ওয়াটসনের নাম উঠে গেছে কোটিপতির তালিকায়। অথচ ক্রোড়পতি সমাজে ঠাঁই মেলেনি আল পাচিনো কিংবা রবার্ট ডি নিরোর মতো অভিনেতাদের।
প্রতিভা ও মেধার চেয়ে খ্যাতি আর জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতেই নির্ধারিত হয় হলিউডের তারকাদের পারিশ্রমিক। এটা না হয় বোঝা গেল। কিন্তু সেটা কী আর এমন আকাশচুম্বী যে ফি বছর তারকাদের পারিশ্রমিক নিয়ে এমন হৈ-হট্টগোল লেগে যায়?

এমন প্রশ্ন সাধারণ পাঠকের মনে উঁকি মারতেই পারে। আসলে এই প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর জবাব।
হলিউডের তারকাদের দর্শকপ্রিয়তার কথাতো আর নতুন করে বলার কিছু নেই বহু। আগেই তারা ঘরের উঠান ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী নিজেদের জনপ্রিয়তার সীমারেখা টেনে দিয়েছেন। হলিউডের তারকাদের প্রতি দর্শকদের ভক্তি-শ্রদ্ধাও প্রবাদতুল্য।

দেবতার চোখেই তাদের দেখেন তাদের ভক্তরা। আর এই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করেই কিন্তু হু হু করে বাড়ে তারকাদের পারিশ্রমিক। লোকে কাউকে পর্দায় চাইছে মানে বক্স অফিস তার ললাট ছোঁয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। তো কেন আর কার্পণ্য করবেন প্রযোজকরা। জলের মতোই টাকা ঢালছেন হলিউড তারকাদের পেছনে।

ধরুন, জনি ডেপের কথা। হ্যাঁ, হ্যাঁ, ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ানে’র জ্যাক স্পেরোর কথাই বলা হচ্ছে। এই এক দস্যুর চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তায় জনি ডেপ চলে গেছেন সবার নাগালের বাইরে।

একখানি অস্কার এ যাবত ঝুলিতে পুড়তে না পারলেও প্রায় ৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঠিকই পকেটস্থ করেছেন। দর্শকদের ভালবাসা পেয়েছেন, পেয়েছেন সমালোচকদের প্রশংসা বাণীও, বাকী যা ছিল তাও পূরণ হয়েছে।

৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করাতো চাট্টিখানি কথা নয়। বাংলাদেশী টাকায় কতো হয় তা হিসেব করতে গিয়ে অনেকে বেহুশও হয়ে যেতে পারেন- টাকার অংকটা এমনই উচ্চগামী।

অবশ্য তার তুলনায় পিছিয়েই আছেন অন্যান্য হলিউড অভিনেতারা। তারপরও কিন্তু সেটা লাখ-কোটির ঘরে নয়, তারচেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে। এইতো ‘টাইটানিক’-এর জ্যাক-এর পারিশ্রমিকের অংকটাই দেখুন। জ্যাক মানে আমাদের লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। তরুণ-তরুণীদের ঘুম কেড়ে নেয়া এই নায়কের বাৎসরিক রোজগার ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দু-দু’বার অস্কার মনোনয়ন পেয়েও অস্কার ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে পারেননি বেচারা।

সেই অতৃপ্তি পুষিয়ে গেছে বছর শেষে। কমতো নয়, ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ‘মিশন ইম্পসিবল’ দিয়ে বিশ্বজয় করে পারিশ্রমিকের মিশনেও কম যাচ্ছেন না টম ক্রুজ।

নাই নাই করেও তার আয় ৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জনপ্রিয়তাটাতো দেখতে হবে তার। সেটা যে পর্বত-সমান উঁচু। পারিশ্রমিকতো তেমন হবেই।

টম ক্রুজের সমান পারিশ্রমিক নিকোলাস কেজ, উইল ফেরেল এবং এডাম স্যান্ডলার-এর। পারিশ্রমিকের দৌড়ে তাদের চেয়ে এক পা এগিয়ে আছেন ব্র্যাড পিট। অবশ্য সেটা তেমন কিছু বেশি নয়, মাত্র চার মিলিয়ন মার্কিন ডলার তথা ৩২ কোটি টাকা!

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দম্পতির একজন ‘মি. স্মিথ’ ব্র্যাড পিটের বার্ষিক উপার্জন প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পিছিয়ে নেই ‘স্পাইডারম্যান’ টোবি ম্যাকগুয়ারও। এক একটি ছবির জন্য তিনি দর হাঁকেন ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

কৌতুকাভিনেতা হলেও এডি মার্ফি এক বছরে কামান অবিশ্বাস্য ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ‘এভরিবডি লাভস রেমন্ড’ শো করে র‌্যামন কামিয়েছিলেন ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সদ্য বাবা হওয়া জনপ্রিয় অভিনেতা ম্যাট ডেমনের বার্ষিক আয়ের অংকটাও উঠানামা করছে ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আশেপাশে।

‘বেন স্টার শো’এর বেঞ্জামিন এডওয়ার্ড ছবি প্রতি নেন প্রায় ৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এতো কিছুই নয় দু’বার অস্কার বিজয়ী টম হ্যাংকসের কাছে। সারা বছরে তার ইনকাম প্রায় ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভাবা যায়? আর এই সিনিয়র-জুনিয়র নির্বিশেষে সব অভিনেতাদের যিনি টেক্কা দিয়েছেন যিনি তার নাম উইল স্মিথ।

শোনা যাচ্ছে ‘হ্যানকক’ রিলিজের পর তিনিই এখন হলিউডের সবচেয়ে দামী অভিনেতা। তার বার্ষিক আয় ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। ‘আই রোবট’, ‘ম্যান ইন ব্ল্যাক’-এর মতো ছবিতে দরাদরি না করেই পেয়েছেন ৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জয়বাবা কালোনাথ!

হলিউডের অভিনেতাদের অভিনেত্রীদের তুলনায় অনেক বেশি কামাই-রুজি সত্যি, তাই বলে পিছিয়ে নেই তারা। কোটির ঘরেই খেলছেন নারী তারকারা। আর অভিনেত্রীদের নামকে যিনি রওশন করেছেন তিনি হচ্ছেন ক্যামেরন ডায়াজ।
গেল বছর ‘মাস্ক’ তারকার আয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমেরিকার অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিকের ইতিহাসে যা একখানা রেকর্ড। এই সূত্রে ক্যামেরন এখন হলিউডের সবচেয়ে দামী নায়িকা।

হলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত অভিনেত্রীদের তালিকায় পড়েন কেইরা নাইটলি। বছর ভর তিনি কামিয়েছেন ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গিনেথ প্যালট্রোর রোজগার ছিল ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাকে ছাড়িয়ে জেনিফার অ্যানিস্টন। তার অর্জন ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাকে ছাড়িয়ে আবার নিকোল কিডম্যান। পার ছবিতে তার পারিশ্রমিক ২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

খুব শিগগিরই রিজ উইদারস্পুন এই অংক ছাড়িয়ে যাবেন বলে শোনা যাচ্ছে। প্রতি ছবিতে তিনি নেবেন ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখন অবশ্য তার পারিশ্রমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তার পেছনেই আছেন ড্রু ব্যারিমোর। এই মুহূর্তে তিনি একেকটি ছবিতে ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার করে নিচ্ছেন। তার পরেই আছেন কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী হ্যালি ব্যারি।
অস্কারের পর তিনি মূল্য হাকাচ্ছেন ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চালির্জ থেরন আর পিছিয়ে থাকবেন কেন। ছবি পিছু তিনি নিচ্ছেন প্রায় ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।একই রকম পারিশ্রমিক পান কার্স্টেন ডান্সটও। প্রতি ছবিতে তার দর বাঁধা প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

হয়তো ভাবছেন এতো অভিনেত্রীর ভীড়ে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নামটি কোথায়। তিনি আছেন যা হোক এক রকম। প্রায় ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেই তিনি সীমাবদ্ধ রেখেছেন তার পারিশ্রমিককে।

পাঠকদের হয়তো এমন অনেক অভিনেত্রীদের নামই এই মুহূর্তে মনে আসছে যাদের সম্পর্কে তারা জানতে চাইছেন। জানতে চাইছেন তাদের অবস্থানের কথা। নাম-ডাকে তারা এগিয়ে থাকলেও পারিশ্রমিকের বিচারে তারা কিছুটা পিছিয়ে আছেন। কারণ সুনাম কিংবা সু’অভিনয় তাদের মুঠিবদ্ধ থাকলেও প্রযোজকদের আস্থার প্রশ্নে তারা সুবিধা করে উঠতে পারেন নি।

উৎস : বাংলাদেশ ইনফো (সেপ্টেম্বার, ২০০৮)

পোস্টটি শেয়ার করুন :